সহায়তা কমিয়ে ‘উদারতা’ প্রচারের নির্দেশ: মার্কিন আফ্রিকা নীতিকে ঘিরে বর্ণবাদ বিতর্ক
মার্কিন আফ্রিকা ব্যুরোর প্রধান সহায়তা কমানো সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদারতা’ তুলে ধরতে কর্মীদের নির্দেশ
মার্কিন কূটনীতিকদের আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদারতা’ জোরালোভাবে প্রচারের নির্দেশ ঘিরে বিতর্ক। সহায়তা কমানোর প্রেক্ষাপটে ইমেইলটিকে বর্ণবাদী বলছেন সাবেক কর্মকর্তারা।
সহায়তা কমানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদারতা’ জোর দিয়ে তুলে ধরতে কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অফিসের নতুন প্রধান যে ইমেইল পাঠিয়েছেন, সেটিকে আফ্রিকাকে অগ্রাধিকার নয় বলে উড়িয়ে দেওয়ার কারণে ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আফ্রিকা বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান নিক চেকার কূটনীতিকদের আফ্রিকার সরকারগুলোর কাছে মার্কিন জনগণের “উদারতা” “নিঃসংকোচে ও আক্রমণাত্মকভাবে” তুলে ধরতে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি জানুয়ারিতে পাঠানো এই ইমেইলটি সম্প্রতি ফাঁস হয় এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তা প্রকাশ করে।
সমালোচকদের অভিযোগ, বাস্তবে যখন আফ্রিকায় মার্কিন সহায়তা কমানো হচ্ছে, তখন ‘উদারতা’র প্রচার চালানো শুধু দ্বিচারিতাই নয়, বরং এটি আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
🔍 কী বলা হয়েছে ফাঁস হওয়া ইমেইলে
ইমেইলে নিক চেকার লিখেছেন, এইচআইভি/এইডস মোকাবিলা বা দুর্ভিক্ষ লাঘবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথা আফ্রিকান দেশগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া “বেমানান নয়”। বরং যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা নয়—এমন “ভ্রান্ত ধারণা” মোকাবিলায় এটি জরুরি।
তার ভাষায়, এই সহায়তাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এগিয়ে নিতে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
🧭 ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আফ্রিকা কৌশল
চেকারের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গত নভেম্বরে প্রকাশিত ওই কৌশলে বলা হয়—
-
আফ্রিকার সঙ্গে সহায়তাভিত্তিক সম্পর্ক কমিয়ে
-
বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে
-
যুক্তরাষ্ট্র কেবল সেই দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদার হবে, যারা মার্কিন পণ্য ও সেবার জন্য বাজার খুলবে
ইমেইলে আরও বলা হয়, আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি “পার্শ্ববর্তী (peripheral) ক্ষেত্র”, যেখানে স্বার্থ সীমিত এবং মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই মুখ্য।
⚠️ ‘আপত্তিকর ও বর্ণবাদী’ অভিযোগ
আফ্রিকায় দুই দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক সাবেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক ইমেইলটিকে
“আপত্তিকর এবং সরাসরি বর্ণবাদী”
বলে মন্তব্য করেছেন।
ডিক্লেপ্টোক্রেসি প্রজেক্টের সভাপতি ও সাবেক স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার হ্যারিসন বলেন,
“যেসব অঞ্চলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বন্ধ করা হয়েছে, সেখানে এখন ‘উদারতা’র বার্তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।”
🌍 আফ্রিকান কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া
পশ্চিম আফ্রিকার এক কূটনীতিক জানান, মার্কিন মানবিক সহায়তা অতীতে চিকিৎসা ও খাদ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি বলেন—
“সহায়তা হঠাৎ কমানো বা বন্ধ হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উদারতার কথা পুনরাবৃত্তি করা আর উপযুক্ত নয়।”
🏥 USAID বন্ধের উদ্যোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক
এদিকে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা USAID বন্ধ করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সংস্থাটি গত বছর ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া USAID বন্ধ করা আইনবহির্ভূত। সমালোচকদের দাবি, এটি বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদকে উৎসাহিত করবে।
আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমিয়ে একই সঙ্গে ‘উদারতা’ প্রচারের কৌশল কেবল কূটনৈতিকভাবে বিতর্কিত নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতা—দুটোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
FAQ:
👉 যুক্তরাষ্ট্র কেন আফ্রিকায় সহায়তা কমাচ্ছে?
ট্রাম্প প্রশাসন সহায়তাভিত্তিক সম্পর্ক থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছে।
👉 নিক চেকারের ইমেইল কেন বিতর্কিত?
কারণ সহায়তা কমানোর বাস্তবতায় ‘উদারতা’ জোরালোভাবে প্রচারের নির্দেশকে বর্ণবাদী ও অসংবেদনশীল বলা হচ্ছে।
👉 USAID বন্ধ হলে কী প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে মানবিক সহায়তা কমবে এবং বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদ বাড়তে পারে।

