খোলা খাবার, বাড়ছে রোগ
বাংলাদেশের রাস্তা ও হোটেল সংস্কৃতিতে নীরব জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি
ডেস্ক রিপোর্ট | বাংলাদেশ https://www.effectivegatecpm.com/vdi0rfswd?key=e3693583f4ae4a61225dfb35833d66ff
বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই রাস্তার পাশে, বাসস্ট্যান্ডে, রেলস্টেশনে ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য খাবারের হোটেল ও স্ট্রিট ফুডের দোকান। কম দামে দ্রুত খাবার পাওয়ার কারণে এসব দোকানে প্রতিদিন ভিড় জমে। তবে এই সহজলভ্য খাবারের আড়ালেই বাড়ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি।
খোলা খাবারের অস্বাস্থ্যকর বাস্তবতা
দেশের অধিকাংশ ছোট হোটেল ও স্ট্রিট ফুডের দোকানে খাবার খোলা অবস্থায় সামনে সাজিয়ে রাখা হয়। ভাত, তরকারি, মাংস, ভাজাপোড়া, চপ-সমুচা, জিলাপি কিংবা শরবত—সবই থাকে ঢাকনাবিহীন। ব্যস্ত সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ধোঁয়া, উড়ন্ত ধুলাবালি, ময়লা পানি ও মাছি সরাসরি এসব খাবারের ওপর পড়ে।
বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনের আশপাশে আবর্জনার স্তূপ, খোলা নর্দমা ও দুর্গন্ধপূর্ণ পরিবেশে খাবার বিক্রি হতে দেখা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাড়ছে রোগব্যাধি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস জন্মায়। এসব খাবার গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, জন্ডিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।
আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগের অভাব
বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA), ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যবিধি থাকলেও বাস্তবে এসব আইনের প্রয়োগ খুবই সীমিত। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও তা নিয়মিত না হওয়ায় স্থায়ী সমাধান আসছে না।
ব্যবসায়ীদের অবহেলা ও সচেতনতার ঘাটতি
অনেক খাবার ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জানেন না বা তা মানতে অনাগ্রহী। কেউ কেউ মনে করেন ঢাকনা ব্যবহার করলে খাবার বিক্রি কমে যাবে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও নজরদারির অভাবে তারা বছরের পর বছর অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে খাবার বিক্রি করে যাচ্ছেন।
ভোক্তাদের ভূমিকা ও সচেতনতা
শুধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করলে চলবে না। কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে ভোক্তারাও নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে খোলা খাবার গ্রহণ করছেন। নিরাপদ খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- খাবার ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে
-
নিয়মিত ও ধারাবাহিক মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে
-
খাবার ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে হবে
-
গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে
-
আইন প্রয়োগে কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে হবে
খোলা খাবার বাংলাদেশের রাস্তা ও হোটেল সংস্কৃতির পরিচিত দৃশ্য হলেও এর ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর সচেতন হওয়া নাগরিকের কর্তব্য। সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
FAQ (Frequently Asked Questions)
👉 খোলা খাবার খাওয়ার ফলে কী কী রোগ হতে পারে?
খোলা খাবার খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, জন্ডিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
👉 বাংলাদেশের স্ট্রিট ফুড কেন স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ?
কারণ অধিকাংশ স্ট্রিট ফুড খোলা অবস্থায় রাখা হয়, যেখানে ধুলাবালি, মাছি ও জীবাণু সহজেই খাবারে মিশে যায়।
👉 খোলা খাবার বিক্রি কি আইনত দণ্ডনীয়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ, তবে প্রয়োগ দুর্বল।
👉 নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকা কী?
সরকারকে নিয়মিত তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার এবং ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
👉 ভোক্তারা কীভাবে নিজেরা নিরাপদ থাকতে পারেন?
ভোক্তারা ঢাকনাযুক্ত ও পরিষ্কার দোকান থেকে খাবার কিনে, খোলা খাবার এড়িয়ে এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে পারেন।


