পেন্টাগন উত্তর কোরিয়া প্রতিরোধে ভূমিকা কমাতে চায়, প্রধান দায়িত্ব দক্ষিণ কোরিয়ার
পেন্টাগনের নতুন নীতিগত নথি বলছে, উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়াকেই নিতে হবে প্রধান দায়িত্ব; যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হবে সীমিত। https://www.effectivegatecpm.com/vdi0rfswd?key=e3693583f4ae4a61225dfb35833d66ff

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একটি যৌথ লাইভ ফায়ারিং মহড়া পর্যবেক্ষণ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কৌশলে নিজের ভূমিকা “আরও সীমিত” করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত পেন্টাগনের ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি (NDS) নথিতে বলা হয়েছে, এই দায়িত্বের প্রধান ভার দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর থাকবে। এই অবস্থান সিউলে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
🔴🇰🇷🇺🇸 দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮,৫০০ মার্কিন সেনা, তবু দায়িত্ব বদলের ইঙ্গিত
বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ৭.৫ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
📄 পেন্টাগনের নথিতে কী বলা হয়েছে?
পেন্টাগনের নীতিনির্ধারণে দিকনির্দেশনা দেওয়া ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“গুরুত্বপূর্ণ হলেও তুলনামূলকভাবে সীমিত মার্কিন সহায়তার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা দক্ষিণ কোরিয়ার রয়েছে।”
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস কোরীয় উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হালনাগাদ করার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
🌏 তাইওয়ান ও চীন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অগ্রাধিকার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ভূমিকা আরও নমনীয় করা হতে পারে। লক্ষ্য—
-
তাইওয়ান সংকট মোকাবিলা
-
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব রোধ
-
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা
পেন্টাগনের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো—চীন যেন যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে।
🪖 দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাশক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি
দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাদের ভূমিকা কমানোর ধারণার বিরোধিতা করে আসছে। তবে বাস্তবতা হলো—
-
দক্ষিণ কোরিয়ার মোট সেনাসংখ্যা: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার
-
গত ২০ বছরে ব্যাপকভাবে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি
-
যুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনীর কমান্ড নেওয়ার প্রস্তুতি
🏛️ ‘অ্যালায়েন্স মডার্নাইজেশন’ ও প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং
এই নীতিগত পরিবর্তনকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ঘোষিত “Alliance Modernisation” কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও এর আগে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অধিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি এক বক্তব্যে বলেন—
“বিদেশি সেনা ছাড়া আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা অসম্ভব—এই আত্মসমর্পণমূলক মানসিকতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
☢️ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গ বাদ পড়ল
লক্ষণীয় বিষয় হলো, পেন্টাগনের এই নথিতে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণুমুক্ত করার কথা উল্লেখ নেই।
এর আগে ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন “সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ”-কে লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয়—যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার কৌশলের দিকে এগোচ্ছে।
🇰🇷 দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া
শনিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়—
“ইউএস ফোর্সেস ইন কোরিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়া জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
FAQ:
👉 পেন্টাগন কেন উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ভূমিকা কমাতে চায়?
👉 দক্ষিণ কোরিয়ায় কত মার্কিন সেনা রয়েছে?
→ যুক্তরাষ্ট্র মূল ভূখণ্ড ও চীন-কেন্দ্রিক হুমকিকে অগ্রাধিকার দিতে চায়।→ প্রায় ২৮,৫০০ জন।
👉 দক্ষিণ কোরিয়া কি একা উত্তর কোরিয়া মোকাবিলায় সক্ষম?→ পেন্টাগনের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সেই সক্ষমতা রয়েছে।
👉 এই নীতির ফলে কি ইউএস-দক্ষিণ কোরিয়া জোট দুর্বল হবে?→ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, জোট অটুট থাকবে।
👉 পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ লক্ষ্য কি বাতিল করা হয়েছে?→ সরাসরি নয়, তবে সাম্প্রতিক নথিতে বিষয়টি আর উল্লেখ নেই।