বাংলাদেশের অদেখা পেশা: যাদের শ্রমে দেশ চলে, কিন্তু নাম কেউ জানে না

বাংলাদেশের অদেখা পেশার মানুষদের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতা

শহর পরিষ্কার থাকে, কবর প্রস্তুত হয় সময়মতো, ড্রেনেজ সচল থাকে, রাতের শহর নিরাপদে ঘুমায়—এসবের পেছনে আছে কিছু মানুষ। তারা কাজ করেন নিঃশব্দে, আলোচনার বাইরে। রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে তাদের অবদান থাকলেও সমাজে তাদের পরিচয় নেই। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের অদেখা পেশার মানুষদের জীবন, সংগ্রাম ও বাস্তবতা


যাদের শ্রমে দেশ চলে

অদেখা পেশা বলতে কী বোঝায়

অদেখা পেশা বলতে সেই সব কাজকে বোঝায়—
যেগুলো ছাড়া সমাজ চলতে পারে না,
কিন্তু যেগুলো নিয়ে নেই কোনো আলোচনাই।

এই পেশাগুলোর কর্মীরা সাধারণত—

  • সংবাদে আসেন না
  • সামাজিক মর্যাদা পান না
  • নীতিনির্ধারণে উপেক্ষিত
  • নিরাপত্তা ও সুবিধাবঞ্চিত

যাদের শ্রমে দেশ চলে

রাতের শহর যাদের ঘামে পরিষ্কার

ঢাকার রাস্তায় গভীর রাতে যাদের হাতে ঝাঁটা দেখা যায়, তারা শহরের সবচেয়ে অদৃশ্য মানুষ। 0000
ভোরের আলো ফোটার আগেই তাদের কাজ শেষ হয়।

একজন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন,

আমরা কাজ না করলে সকালে মানুষ হাঁটতেই পারবে না। কিন্তু কেউ আমাদের দেখে না।”

রাতের কাজ হওয়ায়—

  • স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি
  • সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
  • নিরাপত্তা নেই

তবু এই কাজেই চলে তাদের পরিবার।


যাদের শ্রমে দেশ চলে

কবর
খোঁড়ার মানুষ: মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিদিনের সহাবস্থান

মৃত্যু এলে সবাই আসে, কিন্তু কবর খোঁড়ার মানুষটির দিকে কেউ তাকায় না।
এই পেশার মানুষরা প্রতিদিনই মৃত্যুর খুব কাছ থেকে জীবন দেখেন।

একজন কবর খোঁড়ার কর্মী বলেন,

মানুষ মরলে সবাই কাঁদে। আমাদের তখন কাজ করতে হয়। আবেগ দেখানোর সুযোগ নেই।”

এই পেশায়—

  • মানসিক চাপ ভয়াবহ
  • সামাজিকভাবে এড়িয়ে চলা হয়
  • কোনো মানসিক সহায়তা নেই

তবু তারা সমাজের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজটি করে যান।


যাদের শ্রমে দেশ চলে

ড্রেনেজ
শ্রমিক: নোংরার ভেতরে জীবনের লড়াই

নগরীর নালা–নর্দমা পরিষ্কার করা শ্রমিকদের কাজ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
কেমিক্যাল, দুর্গন্ধ, সংক্রমণ—সবই তাদের নিত্যসঙ্গী।

একজন শ্রমিক বলেন, 1111

মাস্ক, গ্লাভস কিছুই ঠিকমতো পাই না। অসুস্থ হলে নিজের দায়।”

এই পেশায় দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার হার বেশি হলেও—

  • চিকিৎসা সুবিধা সীমিত
  • কোনো বিমা নেই
  • কাজ হারানোর ভয় সবসময়

যাদের শ্রমে দেশ চলে

রাতের পাহারাদার: ঘুমহীন নিরাপত্তা

যখন শহর ঘুমায়, তখন জেগে থাকেন নাইট গার্ডরা।
তাদের চোখে ঘুম নেই, কারণ অন্যদের নিরাপত্তা তাদের দায়িত্ব।

একজন নাইট গার্ড জানান,

রাতে চুরি হলে দোষ আমাদের। কিন্তু কিছু হলে পাশে কেউ থাকে না।”

এই পেশার মানুষেরা—

  • দীর্ঘ সময় একা কাজ করেন
  • শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন
  • ন্যূনতম বেতন পান

যাদের শ্রমে দেশ চলে

যাদের শ্রমে দেশ চলে

শহরের অদৃশ্য চালকরা

রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়ি চালক—শহরের রক্তনালির মতো।
তাদের ছাড়া শহরের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাবে।

তবু— 2222

  • তারা ট্রাফিক সমস্যার জন্য দায়ী হন
  • সামাজিক সম্মান কম
  • নীতিগত সুরক্ষা নেই

একজন ভ্যানচালক বলেন,

শহর চলে আমাদের চাকার ওপর, কিন্তু আমরা শহরের মানুষ নই।”


যাদের শ্রমে দেশ চলে

পরিসংখ্যানের আড়ালের মানুষ

সরকারি পরিসংখ্যান ও শ্রমবাজারের তথ্য বলছে—

  • শহুরে অনানুষ্ঠানিক খাতে কোটি মানুষ কাজ করেন
  • তাদের বড় অংশ অদেখা পেশার সঙ্গে যুক্ত
  • অধিকাংশের নেই লিখিত চুক্তি

এই বিশাল জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের অর্থনীতির অংশ হলেও রাষ্ট্রীয় নীতিতে তাদের অবস্থান দুর্বল।


বিশেষজ্ঞদের মতামত

একজন সমাজবিজ্ঞানী বলেন, 3333

অদেখা পেশাগুলো আসলে সমাজের ভিত্তি। কিন্তু আমরা শুধু দৃশ্যমান পেশাকেই মূল্য দিই।”

একজন শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে,

এই শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি না দিলে সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়বে।”


সমাধান কী হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

  • অদেখা পেশাকে নীতিগত স্বীকৃতি দেওয়া
  • নিরাপত্তা সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করা
  • স্বাস্থ্য ও বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা
  • সামাজিক মর্যাদা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা

মূলকথা

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে—উন্নয়ন হচ্ছে, শহর বড় হচ্ছে।
কিন্তু এই উন্নয়নের পেছনে যে মানুষগুলো আছে,
তারা এখনো রয়ে গেছে অদেখা।

বাংলাদেশেরঅদেখা পেশার মানুষরা শুধু শ্রমিক নন—
তারা এই সমাজের নীরব নির্মাতা।

 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url